বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

ঘুষ নিয়ে দুদকের দুই কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, একুশের কণ্ঠ অনলাইন:: পুলিশ কর্মকর্তা ও এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার পৃথক দুই ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের দুই কর্মকর্তাকে। তারা হলেন- দুদকের প্রধান কার্যালয়ের (ঢাকা সমন্বিত জেলা) উপ সহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরী ও সহকারী পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) দুদকের আলাদা দুটি অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

দুদকের অফিস আদেশে জানানো হয়, সুদীপ কুমার চৌধুরী বগুড়ায় উপসহকারী পরিচালক থাকাকালীন বগুড়া পুলিশ লাইনের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেনের সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দেন। বিনিময়ে তার কাছ থেকে ও তার আত্মীয়ের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করেন। উৎকোচ দাবি ও গ্রহণের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড দুদকের ফরেনসিক ল্যাব বিশেষজ্ঞগণের মতামতে প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সাক্ষীদের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ না করার জন্য নির্দেশনা যথাযথ প্রতিপালন না করে দুদকের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

সুদীপ কুমার কমিশনের বৈধ আদেশ অমান্য করে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে দুদকের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করেছেন বলে অফিস আদেশে মন্তব্য করেছে দুদক।

এ ঘটনায় সুদীপ কুমার চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ৩৯(খ), ৩৯(ঙ) ও ৩৯(চ) বিধি অনুযায়ী যথাক্রমে ‘অসদাচরণ”, “ক্ষমতার অপব্যবহার” ও ‘দুর্নীতি’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। ফলে বিধিমালার ৪৩(১) বিধি অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকী ভাতা পাবেন বলে অফিস আদেশে জানানো হয়।

দুদকের আরেকটি অফিস আদেশে বলা হয়, মো. মোস্তাফিজুর রহমান পাবনায় উপসহকারী পরিচালক থাকাকালীন তার অফিস কক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার চরচালা গ্রামের মৃত শমসের আলীর ছেলে মো. সামছুল হকের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। আর তার কাছ থেকে ৭৬ হাজার টাকা নেন। চলতি বছরের ২৬ জুন একটি ভিডিও ফুটেজ বাংলাভিশন ও যমুনা টেলিভিশনসহ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সংবাদ প্রচারিত হয়। প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, মেসার্স হক টেক্সটাইল লিমিটেডের মালিক মো. শামসুল হকের কাছ থেকে তিনি ঘুষ নিয়েছেন। তাই পাবনার দুদকের উপপরিচালক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অনুরোধ জানান।

তার বিরুদ্ধে যথাযথভাবে সরকারি দায়িত্ব পালন না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঘুষ নিয়ে চাকরি শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। তাই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা, ২০০৮ এর ৩৯(খ) ও ৩৯(ঙ) বিধি মোতাবেক যথাক্রমে ‘অসদাচরণ’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা (নম্বর ০৮/২০২৩) রুজু করা হয়। ওই বিধিমালার ৪৩(১) বিধি অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী খোরাকী ভাতা পাবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com